সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন
তরফ নিউজ ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে গ্রেফতার মজনু একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট। এর আগেও সে প্রতিবন্ধী নারী ও ছিন্নমূল নারীদের ধর্ষণ করেছে।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম জানান, ধর্ষণের পর সে ভিকটিমের মোবাইল নিয়ে যায় এবং তার পরিচিত এক মহিলা অরুণার কাছে মোবাইল ফোনটি বিক্রি করে দেয়। পরে সে নরসিংদী চলে যায়। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সারাদিন সে বনানী রেল স্টেশনে ছিল। বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে শ্যাওড়া থেকে মজনুকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, তারা প্রথমে মজনুর ছিনিয়ে নেয়া ভিকটিমের মোবাইল ট্র্যাক করে খাইরুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। খাইরুলের দেয়া তথ্যমতে তারা অরুণাকে গ্রেফতার করে। এরপরই তারা মজনুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মজনু একাই ঢাবি শিক্ষার্থীটিকে ধর্ষণ করে বলে জানায় র্যাবকে। একইসাথে সে মাদকাসক্ত বলেও জানিয়েছে র্যাব। ধর্ষণের সময় সে ওই শিক্ষার্থীকে কয়েকবার হত্যারও হুমকি দেয় বলে জানায় র্যাব।
সারোয়ার বিন কাসেম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মজনু তার অপরাধ স্বীকার করেছে। এর আগেও সে বিভিন্ন ছিন্নমূল নারী, ভিক্ষুক নারী ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীদের ধর্ষণ করতো। মজনু কমলাপুর রেলস্টেশন সহ বিভিন্ন স্থান থেকে এসব নারীদের টার্গেট করতো তারপর তাদের প্রতি পৈশাচিক নির্যাতন চালাতো।
মজনু র্যাবকে জানায়, এই প্রথম প্রতিবন্ধী নয়— এমন কাউকে ধর্ষণ করেছে সে। মজনু সেদিন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিল।এরপর ওঁৎ পেতেছিল সে।
সারোয়ার কাসেম বলেন, মজনু ছিল মাদকাসক্ত। এ ধরনের মাদকাসক্তরা তাদের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আর তখন এ ধরনের কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
রোববার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করার দায়ে মজনুকে আটক করার পর সেই যুবকের ছবি তুলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে দেখানো হলে তিনি তাকে ধর্ষক বলে শনাক্ত করেছেন।
র্যাবের কাছে ওই শিক্ষার্থী বলেন ‘আমি পৃথিবীর সকল মানুষের চেহারা ভুলে যেতে পারি কিন্তু ওই ধর্ষকের চেহারা ভুলবো না’।
রোববার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী শ্যাওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পরপরই আক্রান্ত হন। পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে তাকে তুলে সড়কের পাশে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
কয়েক ঘণ্টা পর চেতনা ফিরে পেয়ে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যান। রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
পরদিন (সোমবার, ৬ জানুয়ারি) ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন তার বাবা।